Advertisements

প্রফেসর রওশন আরা করোনা যুদ্ধের এক নীরব সেনাপতি

image-156213-1588128491 প্রফেসর রওশন আরা করোনা যুদ্ধের এক নীরব সেনাপতি

রেডক্রোস হাসপাতালের গাইনী বিভাগের খ্যাতিমান বিশেষজ্ঞ ডাক্তার প্রফেসর রওশন আরা বেগম। কে না চেনেন তাকে। এই মানব দরদী ডাক্তার তার গ্রামের বাড়িটিকে রূপান্তরিত করেছেন একটি হাসপাতালে। মা-বাবার নামে তার নামকরণ করেছেন ‘সাহেরা-হাসান’ হাসপাতাল।

মানিকগঞ্জের ‘গড়পাড়া’ নিজ গ্রাম ও আশে পাশের গরীব-দুঃখীদের মানুষদের জন্যে নামমাত্র মূল্যে আধুনিক সুচিকিৎসা দানের জন্যে অলাভজনক এই প্রতিষ্ঠান তিনি গড়ে তুলেছেন বছর দশেক আগে।

ঢাকা থেকে প্রতি শুক্রবারে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারেরা সেখানে গিয়ে বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান করেন নিয়মিত। মানিকগঞ্জ সমিতির তিনি বর্তমান সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন শত ব্যস্ততা উজিয়ে।তিনি আমাদের গর্ব, আমি আজ গর্বিত, আমরা দু’জনেই একই গ্রামে জন্মেছি বলে নয় শুধু।

মহাপারাক্রান্ত ছোঁয়াচে কোভিড যুদ্ধে ড. রওশন আরা বেগমের অসীম সাহসিকতাপূর্ণ অবদানের জন্যে আমরা গর্বিত। এই সাহসী কন্যাদের খুব জরুরি প্রয়োজন আজ দেশের এই মহাসংকটে।

আমরা প্রতিদিন লক্ষ্য করছি, এই আত্মঘাতী করোনাক্রান্ত সময়ে বিশ্ব আজ টালমাটাল। আজকে পর্যন্ত সর্বমোট মৃতের সংখ্যা ২ লক্ষের অধিক। আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ লক্ষ। মহাপ্রতাপশালী আমেরিকা ইউরোপের দেশসমূহ যখন মৃত ঠেকাতে না পেরে হত-বিহবল, সেই পটভূমিতে আমাদের মতো দেশের অবস্থা তো সহজেই অনুমেয়। পিপিই নেই, পরীক্ষার কীট নেই পর্যাপ্ত, লাইফ সাপোর্টের ভেণ্টিলেটার নেই, অক্সিজেন নেই প্রয়োজনীয় মাত্রায়–যা এই রোগের চিকিৎসার জন্য অপরিহার্য উপাদান।

এতো সব সীমাবদ্ধতা তূচ্ছ করে মানবতাবাদী এই ডাক্তারেরাই খেয়ে না খেয়ে চিকিৎসা দিয়ে আমাদের বাঁচিয়ে তুলছেন। অথচ তাদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা না পেয়েও ঝাঁপিয়ে পড়েছেন এই কোভিড যুদ্ধে। জাতি চিরকাল ঋণী হয়ে থাকবে ফ্রণ্ট লাইনের এই বীর যোদ্ধা ডাক্তারদের কাছে। জাতি কখনও ভুলবে বলে মনে করি না। বরং তাদের এই মহত্বের জয়গান ধ্বণিত্ব হবে আগামী দিনেও।

Advertisements

এই মহাযজ্ঞে ডা. রওশন আরা বেগম একই সঙ্গে কুয়েত-কুর্মীটোলা-মুগদা- এই তিনটি হাসপাতালের করোনা ভাইরাসাক্রান্ত রোগীদের সেবার ব্যবস্থাপনা ও তদারিকতায় রয়েছেন বলেই বুঝতে পারছি তার পোস্ট পড়ে।

এই তিন হাসপাতালে যে সকল কোভিড-বীর, সম্মুখভাগের যোদ্ধা ডাক্তার, নার্স, আয়া পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিজেদের জীবন বাজী রেখে মানব সেবায় নিয়োজিত আছেন -নিজে একজন ডাক্তার হিসেবে তিনি অনবরত তাদের মনে দুর্মর সাহস, আশা ও অনুপ্রেরণা জাগিয়ে চলেছেন মানবিকতার এই কাজে। যেখানে মানুষ মানুষের জন্যে।

আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থার শত সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তিনিই বলতে পেরেছেন, ‘আমরা ঘুরে দাঁডিয়েছি, হে কোভিড বীর, ফ্রণ্ট লাইনের যোদ্ধা, সেই ডাক্তার, নার্স, আয়া পরিচ্ছন্ন কর্মী, আমরা তোমাদের সাথে আছি, মরণকে জয় করবার যে কাজ জীবন বাজি রেখে শুরু করেছো। সেটা আমরা করে যাব, আমাদের দেশে আমরা small pox , cholera জয় করেছি, এবারও আমরা হারবো না।

আদালত তোমাদের কোভিড হিরো দিবে শুনেছিলাম, না দিলেও এদেশের মানুষের মনে তোমরা বীর হবেই। সামনের সময়টুকু আমরা এদেশের মানুষের জন্য উৎসর্গ করতে চাই, যেটুকু সম্বল আপাতত আছে তা নিয়েই চল আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাই।

আমাদের জন্য কেউ গান না লিখুক, কবিতা না শোনাক, আমরা আমাদের সামনের ভোরের সূর্য আমাদের কাছে যারা আসবেন তাদের হাতে তুলে দেব’।

আপা, আপনার পোস্টের এই শেষের কথাগুলো পড়ে চোখের জল ধরে রাখতে পারিনি। তাই কোড করলাম। একজন কবি হিসেবে শুধু বলতে চাই, আগামী পৃথিবীর সকল গান, সকল কবিতা আপনাদের মতো মানবদরদীদের জন্যেই রচিত হবে এবং হচ্ছেও। আপনার ভাষায় আপনার কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে আমরাও বলতে চাই।

‘কোভিড হিরোদের অভিনন্দন’।

অভিনন্দন।
অভিনন্দন।

লেখক: দিলারা হাফিজ, অধ্যাপক ও কবি

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

Advertisements

Check Also

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

মার্চে খুলতে পারে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

পরিবেশ পরিস্থিতি বিবেচনায় মার্চ মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত সরকার নিতে পারে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের …