বিকৃ’ত যৌ’ন লালসা থেকে রক্ষা পায়নি ১৩ বছরের হাওয়ারিনও

গো’পন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর একটা হতে বুধবার(২৯ এপ্রিল) সকাল আটটা পর্যন্ত শ্রীপুরের বিভিন্ন এলাকায় র‌্যা’­ব-১ অ’ভিযান পরিচালনা করে আলোচিত ৪ খু’নের পাঁচ আ’সামিকে গ্রে’প্তার করে। এর পর বেরিয়ে আসে লোম’হর্ষক ঘটনার বর্ণনা।

আ’সামিদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী র‌্যা’­ব জানায়, গ্রে’প্তারকৃত আ’সামিরা ঘটনার কয়েকদিন আগে জানতে পারে কাজল মালয়েশিয়া থেকে হুন্ডির মাধ্যমে প্রায় বিশ-বাইশ লক্ষ টাকা পাঠিয়েছে। এমনি একটি ধারনার বশবর্তী হয়ে ঘটনার পাঁচ-সাতদিন আগে গ্রে’প্তারকৃত কাজিম ও হানিফ একত্রিত হয়ে কাজলের বাড়িতে ডা’কাতির পরিকল্পনা করে। পরে অন্য আ’সামি বশির, হেলাল, এলাহি এবং অন্যান্যদেরকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে। এদের দলে কাজিম এর ছে’লে পারভেজকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয় বলে জানায় আ’সামিরা।

গ্রে’প্তারকৃতরা আরও জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার(২৩ এপ্রিল) রাত সাড়ে বারটার দিকে বাড়ির পিছনের এলাকায় জড়ো হয়। প্রথমে পারভেজ ভেন্টিলেটর দিয়ে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে। এছাড়া হানিফ মাদারগাছ এবং পাইপ বেয়ে ছাদে উঠে সিঁড়ির ঢাকনা খুলে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে। অ’তঃপর অন্যদের প্রবেশের জন্য বাড়ির পিছনের ছোট গেট খুলে দেয়া হয়। কাজিম, হেলাল, বশির, এলাহি এবং আরও কয়েকজন পিছনের গেট দিয়ে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে।

এসময় কাজিম এবং হেলালসহ তিনজন প্রথমে ফাতেমা’র ঘরে ঢুকে এবং কাজিমের হাতে থাকা ধারালো অ’স্ত্র দিয়ে ফাতেমাকে মে’রে ফেলার ভ’য় দেখিয়ে বিদেশ থেকে পাঠানো টাকাগুলো দিতে বলে। ফাতেমা এত টাকা নেই বলে জানায়। এসময় ফাতেমা তার রুমের স্টিলের শোকেসের উপর রাখা টেলিভিশনের নিচে চাপা দেয়া টাকা (৩০ হাজার) বের করে দেয়। পরবর্তীতে ফাতেমা’র স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয় এবং পালাক্রমে ধ’র্ষণ করে। এসময় অন্যান্য রুমেও লুটতরাজ চলতে থাকে। আ’সামি বশির ও এলাহিসহ আরও একজন ভিকটিম নুরাকে তাদের হাতে থাকা ধারালো অ’স্ত্র দিয়ে মে’রে ফেলার ভ’য় দেখিয়ে গলার চেইন ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয় এবং তাকেও পালাক্রমে ধ’র্ষণ করা হয়। আ’সামি বশিরসহ আরও একজন ফাতেমা’র ছোট মে’য়ে হাওয়ারিন’কে পর্যায়ক্রমে ধ’র্ষণ করে। আ’সামি পারভেজও হ’ত্যাকা’ণ্ড ও ধ’র্ষণে অংশগ্রহণ করে। আ’সামিরা তাদের আরও কয়েকজন সক্রিয় সহযোগীর সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য দিয়েছে।

গ্রে’প্তারকৃতরা জানায়, ফাতেমা ও তার মে’য়েরা তাদের কয়েকজনকে চিনে ফেলায় তাদের সবাইকে হ’ত্যা করা হয়। হ’ত্যাকা’ণ্ডে আ’সামিরা ধারালো অ’স্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কু‌‌’পিয়ে ও গলাকে’টে ভিকটিম’দের মৃ’ত্যু নিশ্চিত করে। তবে, প্রতিব’ন্ধী শি’শু ফাদিলকে হ’ত্যা করা নিয়ে আ’সামিদের ভিতর দ্বিদা-দ্বন্ধ ও সংশয় তৈরি হয়। কিন্তু কোন প্রকার সাক্ষী যেন না থাকে সে জন্য প্রতিব’ন্ধী শি’শু ফাদিল’কেও হ’ত্যা করা হয়। পরে লুন্ঠনকৃত মালামাল ও টাকা কাজিম নিয়ে নেয় এবং সুবিধাজনক সময়ে পরস্পরকে বণ্টন করবে বলে বাকী’দের জানায়। গ্রে’প্তারকৃতদের বি’রুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। অন্যান্য আ’সামিদের গ্রে’প্তারে অ’ভিযান অব্যাহত আছে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজে’লার জৈনাবাজার এলাকার একটি বাড়ি থেকে মা স্মৃ’তি ফাতেমা (৩৮), তার মে’য়ে সাবরিনা সুলতানা নূরা (১৬), হাওয়ারিন (১৩) এবং ছে’লে ফাদিল (৮) এর গলাকা’টা লা’শ উ’দ্ধার করে পু’লিশ। ধারণা করা হয় বুধবার (২২ এপ্রিল) দিবাগত রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা চারজনকে গলা কে’টে হ’ত্যা করেছে। পরবর্তীতে গত ২৪ এপ্রিল গৃহবধূর শ্বশুর আবুল হোসেন অ’জ্ঞাত নামা ব্যক্তিদের আ’সামি করে শ্রীপুর মডেল থা’নায় মা’মলা দায়ের করেন।

Check Also

ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরে ঘুম, দুপুরে ৯তলা থেকে লাফ!

কুমিল্লায় জান্নাতুল হাসিন (২৪) নামের এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। তাকে হত্যা করা হয়েছে নাকি তিনি …