Advertisements

রাতের আঁধারে নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে কোথায় যাচ্ছেন এত মানুষ?

image-153503-1586753992 রাতের আঁধারে নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে কোথায় যাচ্ছেন এত মানুষ?

এমন প্রশ্ন আপনার মনেও জাগতে পারে! যেখানে করোনার ‘হটস্পট’ হিসেবে নারায়ণগঞ্জকে ধরা হয়েছে। যেখানে এই শহর নিয়ে দেশের হর্তা-কর্তাদের রাতের ঘুম হারাম। সেখানে সাধারণ মানুষ কি-না রাতের আঁধারে বাসা-বাড়ি ছেড়ে ছুটছেন দিকবিদিক। কেন, কি কারণে তাদের ছোটাছুটি? সরেজমিনে উত্তর খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে এলো ভয়ংকর সব তথ্য। যা শুনলে অনেকেই হাড় হিম হয়ে যাবে নিশ্চিত।

সারা বিশ্ব কাঁপছে করোনায়। যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। রোববার (১২ এপ্রিল) পর্যন্ত দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে মোট ৬২১ জন। যার মধ্যে এই নারায়ণগঞ্জেই ১০৭ জন রোগী। ভাবা যায়, সংক্রমণ ঠেকাতে প্রশাসন তাদের সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। দিনরাত পরিশ্রম করছে। তবু একটু সুযোগ পেলেই নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে গোপনে অনত্র চলে যাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

বিশেষ করে লকডাউনের পরই এই অবস্থা আরও ভয়াবহ হচ্ছে। এই মানুষগুলো পালিয়ে ছড়িয়ে পড়ছেন দেশের বিভিন্ন জেলায়ও। এর আগে করোনার ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরে কারফিউ জারির আবেদন করেছিলেন নারায়ণগঞ্জের সিটি মেয়র আইভী রহমান। কিন্তু কারফিউ দাবি করলেও তা লকডাউন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ আছে।

এ ব্যাপারে মেয়র আইভী বলেছিলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে লকডাউন হয়েছে। কিন্তু পাড়া-মহল্লায় মানুষ এখনো হাঁটাহাঁটি করে। সচেতনতার অভাব আছে। নারায়ণগঞ্জ অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। প্রতিটি মহল্লায় প্রচুর মানুষ। তারা যদি না শোনে, তাহলে তো সর্বত্রগামী হয়ে তাদের পক্ষে ভূমিকা রাখা কঠিন হবে।’

Advertisements

জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নারায়ণগঞ্জে কাজের জন্য আসা এসব মানুষদের বেশির ভাগই গার্মেন্টস কর্মী। রাতে শ্রমিকরা নারায়ণগঞ্জ থেকে নিজ নিজ গ্রামে পালিয়ে যাচ্ছেন। এরপর সেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পুলিশের কাছে খবর যাওয়ার পর নিজ গ্রাম থেকেও পালানোর ঘটনা ঘটছে।

জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার কাজাইকাটা গ্রামের ওয়াহেদুজ্জামান বিদ্যুৎ বলেন, ‘আমাদের গ্রামে একই পরিবারের চারজন ফিরেছেন। রাতে তারা মাইক্রোবাসে করে বাড়িতে আসেন। ফিরেই গ্রামের চৌরাস্তা থেকে শুরু করে বিভিন্ন বাড়ি ঘুরছেন তারা। এর ফলে গ্রামে ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে। চেয়ারম্যানকে জানানোর পর তাদের নামে তালিকা চেয়েছেন।’

লক্ষ্মীপুরের নজরুল ইসলাম দিপু জানান, নারায়ণগঞ্জে মানুষের অযথা যাতায়াতের সুযোগ সুবিধা বন্ধ করার পর চাঁদপুর হয়ে অনেক লোক তাদের জেলায় ফিরছেন।

চাঁদপুরের মেহেদী হাসান বাপ্পি জানান, চাঁদপুরের কচুয়া এলাকার উজানী তুলপাই গ্রামে একজন গত দুদিন আগে নারায়ণগঞ্জ থেকে ফিরেছেন। এই খবর প্রকাশ পাওয়ার পর কচুয়ার পুলিশ তার গ্রামে এসে খুঁজে বের করে এবং রক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা করে। কিন্তু বুধবার ভোর থেকে ওই ছেলে পলাতক। সঙ্গে তার তার দুই ভাইও পলাতক।

কুড়িগ্রাম জেলার রাজীবপুর থানার কর্তিমারী গ্রামের সাব্বির হোসেন বলেন, ‘দুদিন ধরেই নারায়ণগঞ্জ জেলা থেকে বেশ কয়েকজন আমাদের গ্রামে এসেছে। গ্রামের সহজ-সরল মানুষ না জেনে তাদের সঙ্গে মিশছেন। তারাও সব জায়গায় যাচ্ছেন।’

নারায়ণগঞ্জের অধিবাসী সরকারি এক কর্মকর্তা লিয়াকত হোসেন বলেন, ‘অনেকে চিটাগাং মোড় হয়ে বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছেন।’ এ দিকে, নারায়ণগঞ্জ থেকে পালিয়ে বরগুনায় গিয়ে সম্প্রতি ১০৯ জন আটক হয়েছেন বলে জানা গেছে। আটককৃতদেরকে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আমতলী থানা পুলিশ।

Advertisements

Check Also

অভিজাত এলাকায় বিচরণ ডিজে নেহার, চলত উদ্যাম নৃত্য

ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে অতিরিক্ত মদপান করিয়ে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় …