সাধারণ ছয় জিনিসও বহন করতে পারে মারাত্মক জীবাণু!

করোনার আতঙ্কে রয়েছে সারাবিশ্ব। যা একটি ছোঁয়াচে ভাইরাস। এতে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই প্রাণ হারাচ্ছে হাজারো মানুষ। তাই সতর্ক থাকা খুব জরুরি। ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সব সময় হাত ধোয়া ও নিজেদের পরিষ্কার রাখার কথা বলছেন ডাক্তাররা।

তবে নিজেদের অলসতা কিংবা জানার ঘাটতির কারণে আমরা প্রতিদিন জীবাণুবাহী বেশ কিছু উপকরণ বয়ে বেড়াচ্ছি। যেগুলো করোনাভাইরাসসহ অন্য যে কোনো ভাইরাস ছড়িয়ে দিতে পারে। বিষয়টি নিয়ে এখনই সতর্ক না হলে বাড়তে পারে বিপদ। তাই জানা জরুরি নিত্যদিন বহন করা কোন অনুষঙ্গগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখা জরুরি। চলুন জেনে নেয়া যাক সেগুলো-

ব্যাকপ্যাক
প্রয়োজনে আমরা যে পার্স বা ব্যাকপ্যাক বয়ে বেড়াই, তা নিয়ে রাস্তার পরিবেশ ছাড়াও হোটেল, রেস্টুরেস্ট, টয়লেটসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে যাই। অনেক সময় সঙ্গে বহন করা ব্যাগ মেঝেতে রাখি। এতে বাইরের মারাত্মক সব ভাইরাস সহজেই সেসব ব্যাগে আশ্রয় নিতে পারে। করোনার ভয়াবহ বিস্তারের এই সময়ে এ ব্যাপারে আমাদের অবশ্যই সতর্ক হতে হবে।

পুনরায় ব্যবহারযোগ্য বাজারের ব্যাগ
আমরা অনেকেই একবার ব্যবহার করা বাজারের ব্যাগ পুনরায় নিয়ে যাই বাজার বা স্টোরে কেনাকাটা করতে। তবে আমরা এটা জানতেও পারি না, সেই ব্যাগ বাজার বা স্টোরে থাকা কোনো জীবাণু এমনকি বর্তমানের ভয়ংকর করোনাভাইরাস নিয়ে এলো কিনা!

গাড়ির সিট
গাড়ির সিট, বিশেষ করে শিশুর সিটের ব্যাপারে খুব বেশি মনোযাগী হতে হবে। ড. জেরবা বলেছেন, গাড়ির সিটে অসংখ্য জীবাণু, ব্যাকটেরিয়া এমনকি করোনাভাইরাসও থাকতে পারে। বাচ্চারা প্রতিঘন্টায় গড়ে ৬০ বার তাদের মুখমণ্ডলে হাত দেয়। তাদের হাতের মাধ্যমে করোনার মতো ভয়ংকর সব ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করতে পারে। সে কারণে গাড়ির সিট, বিশেষ করে শিশুদের সিট সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে। তাছাড়া শিশু গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গেই স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করে দিন।

মোবাইল ফোন
ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনার মাইক্রো বায়োলজিস্ট চার্লস গেরবার মতে, আমাদের প্রত্যেকের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ভয়ংকর সব ভাইরাস ও জীবাণু বয়ে বেড়ায়। সেটা যেমন আতঙ্কজনক, তেমনি আমরা যদি নিজের মোবাইল ফোন অন্যের হাতে দেই, তখন আরেকজনের হাত থেকে ক্ষতিকর জীবাণু আমাদের শরীরে চলে আসার আশংকা বেড়ে যায়। তাই স্যানিটাইজার দিয়ে প্রতিদিন একবার সেলফোন পরিষ্কার করা উচিৎ। বাজারে সেলফোন স্যানিটাইজার পাওয়া যায়। সেগুলো পেলে আরো ভালো ফল পাবেন।

ইয়োগা ম্যাট
আরেক আমেরিকান মাইক্রো বায়োলজিস্ট ফিলিপ টিয়ারনো বলেছেন, ব্যায়াম করার জন্য যে ইয়োগা ম্যাট ব্যবহার করা হয়, তার মাধ্যমে ফ্লোর থেকে নানা জীবাণু আপনার হাত হয়ে শরীরে প্রবেশ করে। একইভাবে মসজিদের মাদুর বা আপনার জায়নামাজটাও জীবাণু নিয়ে আসতে পারে আপনার শরীরে। তাই এগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।

জুতা
বাইরে যে জুতা পরে আম‌রা বের হই, তাতে বিভিন্ন ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকার সম্ভাবনা থাকে ৯০ শতাংশ। আর এখন করোনাভাইরাস আরো বেশি হুমকি হয়ে উঠেছে। তাই জুতা পরা বা খোলার পর আপনার হাত সাবান দিয়ে পরিষ্কার করতে ভুলবেন না। সম্ভব হলে জুতা বাইরে রেখে তারপর ঘরে ঢুকুন।

Check Also

গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় যে ৫ সবজি এড়িয়ে চলবেন

গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা নানা কারণে হতে পারে। ধরুন আপনি খাবার খেয়েই ঘুমিয়ে গেলেন, কিংবা মদ্যপান-ধূমপানের অভ্যাস …