Advertisements

সেই ভিক্ষুককে বাবা ডেকে পায়ে সালাম করতে চান ওমর সানী

image-155174-1587566546 সেই ভিক্ষুককে বাবা ডেকে পায়ে সালাম করতে চান ওমর সানী

দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে অসহায় দরিদ্রদের জন্য নিজের ভিক্ষার জমানো টাকা ত্রাণ তহবিলে দান করে দিয়েছেন নাজিমুদ্দিন নামের ৮০ বছর বয়সী এক ভিক্ষুক।

তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন চিত্রনায়ক ওমর সানী। ওই ব্যক্তির ছবির ক্যাপশনে নায়ক লিখেছেন, ‘যে না কি মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ভিক্ষা করে, সে দান করছে করোনা ভাইরাসের ত্রাণ তহবিলে, সাবাস বাবা আপনা কে পায়ে ধরে সালাম করতে চাই, আর কিছু মানুষের নামের উপর। থাক বললাম না। আমার তো বাবা নেই, তাই অনেকদিন পর বাবা বলে সম্বোধন করলাম।’

সম্প্রতি এই ভিক্ষুকের দান করার সংবাদ প্রকাশ হলে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে শেরপুরের ঝিনাইগাতীর মালিঝিকান্দা ইউনিয়নের বাতিয়াগাঁও এলাকায় ইউএনও রুবেল মাহমুদের হাতে ওই টাকা তুলে দেন ভিক্ষুক নজিমুদ্দিন।

ভিক্ষুক নাজিমুদ্দিনের বয়স ৮০ বছর। ভিক্ষা করেই সংসার চালান তিনি। নিজের মাথা গোঁজার ঠাই বসতঘর মেরামতের জন্য দুই বছর ধরে ভিক্ষা করে ১০ হাজার টাকা জমিয়েছেন তিনি। এই টাকা দিয়েও তার ঘর মেরামত হচ্ছিল না। আরও টাকার প্রয়োজন। কিন্তু করোনায় দেশে অসহায়দের কথা ভবে নিজের জমানো টাকা দান করে দেন তিনি।

Advertisements

গত রোববার ইউএনও রুবেল মাহমুদের নির্দেশে খাদ্য সহায়তার জন্য স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘দি প্যাসিফিক’ ক্লাবের সদস্য ও স্থানীয় ইউপি সদস্যরা কর্মহীন অসহায় দরিদ্রদের তালিকা প্রণয়নে গান্ধীগাঁও গ্রামে যান। এ সময় ভিক্ষুক নাজিমুদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে তাকে ইউএনর’র পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী দেয়ার কথা বলে তার জাতীয় পরিচয়পত্র দেখতে চান। কিন্তু ভিক্ষুক নজিমুদ্দিন ওই তালিকায় তার নাম না দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন।

উল্টো ওই ভিক্ষুক বলেন, নিজের বসত ঘর মেরামত করার জন্য দুই বছরে ভিক্ষা করে জমিয়েছেন ১০ হাজার টাকা। এ টাকা স্বেচ্ছায় বর্তমান পরিস্থিতিতে অসহায়দের খাদ্য সহায়তা দেয়ার জন্য ওই তহবিলে দান করবেন তিনি। পরে মঙ্গলবার ‘দি প্যাসিফিক’ ক্লাবের সদস্য ও স্থানীয় ইউপি সদস্য ইউএনও’র কাছে নিয়ে আসলে জমানো ১০ হাজার টাকা ইউএনও’র হাতে তুলে দেন ভিক্ষুক নজিমুদ্দিন।

নজিমুদ্দিন ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের গান্ধীগাঁও গ্রামের ইয়ার আলীর ছেলে।

এদিকে অনুদান দেওয়া ভিক্ষুক নাজিম উদ্দিনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সরকারি জমিতে একটি পাকা ঘর, জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে একটি দোকান ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার ও পরিবারের ভরণপোষণ ও চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে।

Advertisements

Check Also

অভিজাত এলাকায় বিচরণ ডিজে নেহার, চলত উদ্যাম নৃত্য

ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে অতিরিক্ত মদপান করিয়ে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় …