ঋষি কাপুরের শেষ ইচ্ছা পূরণ করেনি রণবীর!

‘বিয়ে দেখে যেতে চাই’, ছেলে রণবীরকে শেষ এই ইচ্ছের কথাই জানিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। ঠিক ছিল এই ডিসেম্বরেই রণবীর কাপুর এবং আলিয়া ভাট বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন। এত সব গুঞ্জনের মাঝেই চুপেচাপে কাপুর পরিবারের অন্দরে তোড়জোড়ও শুরু হয়ে গিয়েছিল। যাতে ঋষি অন্তত বিয়েটা দেখে যেতে পারেন। কিন্তু শেষরক্ষা আর হল না!

ছেলের বিয়ে দেখে যেতে পারলেন না ঋষি কাপুর। আলিয়ার সঙ্গেও ঋষি-নীতুর বেশ শখ্যতা তৈরি হয়েছিল।

বলিউডের কাপুর সাম্রাজ্যের আদুরে ছেলে চিন্টু। ছোট থেকেই মাতিয়ে রাখতেন পরিবারের সকলকে। দাদু পৃথ্বীরাজ কাপুরের চোখের মণি ছিলেন। কাপুর পরিবারের ইতিহাসে ঋষিই একমাত্র যিনি বাবা রাজ কাপুর এবং দুই ভাই রণধীর ও রাজীবের পরিচালনায় সিনেমা করেছেন।

সাদাকালো থেকে রঙিন ফ্রেমের ছবির ইতিহাস খুব কাছ থেকেই পর্যালোচনা করতে পেরেছেন সেই সুবাদে।

‘শ্রী ৪২০’ সিনেমার এক গানের দৃশ্যেই পর্দায় প্রথম ধরা দেন। ৩ বছরের খুদে ঋষিকে ‘প্যায়ার হুয়া ইকরার হুয়া’ গানের দৃশ্যে দেখা গিয়েছিল। তবে অভিনেতা হিসেবে হাতেখড়ি হয় ‘মেরা নাম জোকার’ দিয়ে। ১৫-১৬ বছর বয়সে। এই ক্লাসিক বলিউড ছবিতে ঋষিকে দেখা যায় বাবা রাজ কাপুরের ছোট বয়সের চরিত্রে। অর্থাৎ জুনিয়র জোকার হিসেবে।

বলিউড হয়তো তখনই পালস বুঝে গিয়েছিল অভিনেতার। ফর্সা চেহারা, ভরা গাল, একেবারে দুষ্টুমিষ্টি এই ছেলে যে লম্বা রেসের ঘোড়া। এরপর সাতের দশকে বাবা রাজ কাপুরের পরিচালনায় ‘ববি’ সিনেমায় মূল চরিত্রে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। বিপরীতে ডিম্পল কাপাডিয়া।

তৎকালীণ যুবসমাজের বুকে ঝড় তুলে দিয়েছিল ‘হাম তুম এক কামড়ে মে বন্ধ..’ গানটি। বাবা রাজ কাপুরের কড়া নির্দেশ ছিল, গানের দৃশ্যের শুটিংয়ে গলা ছেড়ে গাইতে হবে। যাতে দেখে লিপসিঙ্ক না বোঝা যায়!

বলিউডে তখন সবাই চার্মিং চিন্টু বলেই ডাকতো। ভারী আমুদে মানুষ। কথাবার্তাতেই আপন করে নিতেন মানুষকে। তৎকালীন দেশের যুবতীদের হার্টথ্রব ছিলেন ‘চকোলেট বয়’ ঋষি। কত নায়িকাই যে প্রেমে হাবুডুবু খেয়েছে। শোনা যায়, ‘ববি’ সিনেমার পর ডিম্পল কাপাডিয়ার সঙ্গে তার একটা সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল, কিন্তু বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। টিনা মুনিমের সঙ্গেও বহু হিট সিনেমা উপহার দিয়েছেন।

যেমন শ্রীদেবীর বিপরীতে অভিনয় করেছেন, তেমনই জুহি চাওলা, মাধুরী দিক্ষীতের বিপরীতেও তাকে দিব্যি মানিয়ে যেত। প্রযোজক-পরিচালকরাও তাই বয়সের ফারাক নিয়ে ভাবতেন না খুব একটা। আসলে একটা বয়স পরে এসেও তাই, শরীরে বার্ধক্য এলেও মনেপ্রাণে আগাগোড়াই শিশুসুলভ, সহজ-সরল, স্পষ্টবাদী ছিলেন ঋষি।

‘হাম কিসি সে কম নেহি’ ছবির ‘বচনা অ্যায় হাসিনো’ গানটির রিমেক ভার্সনে কোমর দুলিয়েছিলেন ছেলে রণবীর কাপুর। গানের শীর্ষকের অনুসরণেই সিনেমার নাম হয়েছিল ‘বচনা অ্যায় হাসিনো’। ‘হাম তুম কামড়ে বন্ধ হ্যায়’ থেকে ‘তু তু হ্যায় ওয়াহি’ ঋষি কাপুরের সিনেমার প্রায় অনেক গানই সুপারহিট!

১৯৭৪ সালে নীতুর সঙ্গে ছবি করার সূত্রে আলাপ। প্রেম জমে তারপরই। আউটডোরে শুট করতে গিয়ে মিস করা শুরু করেন নীতুকে। টেলিগ্রাম করে বলেন, ‘ইয়ে শিখনী বড়ি ইয়াদ আতি হ্যায়’। ৫ বছর দীর্ঘ সম্পর্কের পর ১৯৮০ সালে বিয়ের পিড়িতে বসেন ঋষি কাপুর এবং নীতু সিং।

অভিনয় জীবনের সেকেন্ড ইনিংসে ‘১০২ নট আউট’, ‘ডি-ডে’ থেকে ‘মুলক’, ‘অগ্নিপথ’, ‘দো দুনি চার’, ‘রাজমা চাওল’ অভিনয় তো করেইছেন। তার সঙ্গে প্রযোজক-পরিচালক হিসেবেও নাম লিখিয়েছিলেন ঋষি। ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম মাইলস্টোন প্রোডাকশন হাউস, আরকে ফিল্মসের ব্যানারে শেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘আ অব লট চলে’র পরিচালনা করেছিলেন ঋষি কাপুর। ঐশ্বরিয়া, অক্ষয় খান্না অভিনয় করেছিলেন। সেই ছবি দিয়েই পরিচালক হিসেবে হাতেখড়ি ঋষি কাপুরের। আর সেটাই ঋষি পরিচালিত শেষ ছবি।

২০১৭ সালে ‘কাপুরস অটোবায়োগ্রাফি খুল্লাম খুল্লা: ঋষি কাপুর আনসেনসরড’ বইতে বাবা রাজ কাপুরের একাধিক নায়িকার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার কথা প্রকাশ্যে এনেছিলেন ঋষি।

Check Also

বিয়ে বিচ্ছেদ নিয়ে ফের স্ট্যাটাস দিলেন শবনম ফারিয়া

বেশ কিছু কাজের পর ‘দেবী’ ছবিতে অন্য রকম সুনাম কুড়িয়েছিলেন অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। টেলিভিশন ধারাবাহিক …