করোনা যুদ্ধে প্রধান অস্ত্র পুষ্টিকর খাবার

কোভিড-১৯ এর সাথে যুদ্ধ করতে হবে। সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকতে হবে। কারণ, করোনা সহসাই যাবে না। তাই প্রতিনিয়ত করোনা যুদ্ধে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে। আর পুষ্টিকর খাবারই পারে এই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে।

অর্থনীতি, করোনা এবং মানুষের ত্রিমুখী যুদ্ধ শুরু হলো মাত্র। এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হুশিয়ার করে জানিয়েছেন, আপনার, আমার করোনা হতে পারে এবং সেইভাবেই আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। ভয় পেয়ে লাভ নেই, মোকাবেলা করে বেঁচে থাকার প্রস্তুতি নিতে হবে। এখন দরকার একসাথে যাতে সবাই আক্রান্ত না হয় সেই চেষ্টা করা। সবাই একসাথে অসুস্থ হলে হাসপাতালে অসুস্থদের জায়গা হবে না। মৃত্যুর হার বেড়ে যাবে। অর্থনৈতিক সংকট গভীর থেকে গভীরতম হবে। আমরা খুবই আবেগপ্রবণ জাতি। আমাদের মধ্যে কেউ আক্রান্ত হলে আমরা আক্রান্ত ব্যক্তির কাছে না গিয়ে বা আক্রান্ত ব্যক্তিকে না ধরে থাকতে পারব না। তাই যে ব্যক্তি আক্রান্ত হয়েছে বলে মনে করেন, সে যেন কিছু সাবধানতা অবলম্বন করে বা মেনে চলেন। মুখে মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার করে ঘরে আইসোলেশন অবস্থায়, পরিধানের কাপড়, বিছানার চাদর, বাথরুম স্যানিটাইজেশন করে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) অনুযায়ী করোনার লক্ষণসমূহ-

১. জ্বর (তীব্র জ্বর ৯৯.৫ ফারেনহাইট এর উপর)

২. গলা ব্যথা (প্রচন্ড)

৩. ক্ষুধামন্দা

৪. শ্বাসকষ্ট

৫. গন্ধ শুকতে সমস্যা

৬. শরীর ব্যথা

৭. কাশি (চলতে থাকে ১৫-২৫ দিন)

৮. দুর্বলতা

৯. ডায়রিয়া

১০. বয়স্কদের কিছু বুদ্ধিলোপ

১১. পূর্বে ডায়াবেটিস, লিভার সমস্যা থাকলে তা প্রকট হওয়া।
অধিক ওজনধারীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় পুষ্টিগত নিয়মগুলো মেনে চলতে হবে

১. খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে, সবজি-ফল খেতে হবে।

২. মাছ, মাংস, ডিম বেশি আঁচে সময় নিয়ে রান্না করে খেতে হবে।

৩. মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, বাদাম, মুরগীর স্যুপ, টক দই খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে।

৪. অ্যালকালাইন ফুড, পিএইচ লেভেল বেশি খাবার মেনুতে রাখতে হবে লেবু-৯.৯ পিএইচ, রসুন ১২.২ পিএইচ, কমলা ৯.২ পিএইচ, আনারস ১২.৭ পিএইচ, অ্যাভাগাডো ১৫.৭ পিএইচ। করোনা ভাইরাস ৫.৫ থেকে ৮.৫ পিএইচ এর মধ্যে থাকতে পারে।

৫. প্রক্রিয়াজাত খাবার বা বাহিরের পচা তেল বা অধিক তেল, মসলা যুক্ত খাবার বাদ দিতে হবে।

৬. ভিটামিন সি বা টক জাতীয় ফল প্রতিদিন খাবার মেনুতে রাখতে হবে। লেবু, আমলকি, জলপাই, কমলা, পেয়ারা, টমেটো ইত্যাদি।

৭. ভিটামিন ডি পাওয়ার জন্য সূর্যের আলো পাওয়া যায় এমন স্থানে ১৫-২০ মি. বসতে হবে।

৮. ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা নিঃশব্দ ঘুমাতে হবে। ঘুম কম হলে, দুশ্চিন্তা হলে ইমিউনিটি কমে যায়। দুর্বলতা বাড়লে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় তাই মানসিক চাপ মুক্ত থাকতে হবে।

৯. ৭/৮ গ্লাস পানি পান করতে হবে। এখন রোজার মাস সেহেরি ও ইফতারে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে।

১০. শারীরিক দুর্বলতা হতে পারে, তাই ডাবের পানি অথবা ওরস্যালাইন খেতে হবে দিনে ১টি।

১১. কাঁচা সালাদ, কাঁচা ফল খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। ফল খুব ভালো করে ধুয়ে সামান্য কুসুম গরম পানি দিয়ে সরবত বানিয়ে খাওয়া যায়।

১২. ঠান্ডা বা ফ্রিজের কোন খাবার খাওয়া যাবে না।

১৩. গরম পানি সামান্য লবণ দিয়ে গারগেল করতে হবে, গলা ব্যথা করলে।

১৪. মধু দিয়ে কালিজিরা প্রতিদিন খেতে হবে।

১৫. চায়ে রোগ প্রতিরোধক উপাদান বিদ্যমান। তাই দারুচিনি, আদা, কালিজিরা, গোলমরিচ, লবঙ্গ দিয়ে পানি ফুটিয়ে তাতে চা-পাতা, লেবু, মধু দিয়ে ২-৩ বার পান করতে হবে।

১৬. শ্বাস কষ্ট হলে একটি পাত্রে গরম পানি ফুটিয়ে তাতে ভিকস দিয়ে ভাপ নেওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

১৭. Multivitamin,Vitc,Vitd3 খাদ্যের সাথে এগুলো খেলে ভালো ফল পাওয়া যাবে, তবে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকর্মী বা ডাক্তারদের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

এছাড়াও শারীরিক পরিশ্রম, ব্যায়াম, শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যয়াম, হাটাহাটি করতে হবে এবং মনোবল শক্ত রাখতে হবে।
সর্বোপরি সুস্থ থাকার জন্য চেষ্টা করতে হবে। কারণ ৯০ শতাংশ রোগী বাসার চিকিৎসায় ভালো হয়। অতিরিক্ত জ্বর বা শ্বাসকষ্ট হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সৃষ্টিকর্তার সাহায্য প্রার্থনা করি, সবাই সুস্থ থাকি, দেশ, জাতি, পৃথিবীর মানুষ সুস্থ থাকুক। আমরা সকলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখি, দেশের প্রচলিত আইন এর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে নিজে বাঁচি। আশেপাশের মানুষদের বাঁচতে সহায়তা করি। সমাজকে বাঁচতে সহায়তা করতে হবে।

সুস্থ সমাজে, সুস্থ পৃথিবীতে আমাদের সবার আবার দেখা হোক। তাই যুদ্ধটা বাসায় বসেই করা হোক।

লেখক: পুষ্টিবিদ, ইবনে সিনা হাসপাতাল। অনুলিখন: তানিয়া আক্তার

Check Also

নারায়ণগঞ্জে ট্রেন থামিয়ে ঝালমুড়ি কিনলেন চালক (ভিডিও)

মাঝপথে ট্রেন থামিয়ে ঝালমুড়ি কিনছেন নারায়ণগঞ্জের এক ট্রেনচালক। তার এ ঝালমুড়ি কেনার ভিডিও এখন সামাজিক …