ক্রিকেট ফ্যানদের জন্য দু:সংবাদ! ‘হচ্ছে না’ টি-২০ বিশ্বকাপ

করোনা মহামারির জেরে হয়তো চলতি বছর আর আয়োজিত হবে না টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। চলতি বছর অনুষ্ঠেয় টি-২০ বিশ্বকাপ পিছিয়ে যেতে পারে ২০২২ সালে। চলতি মাসের শেষদিকে আইসিসির বোর্ড সভায় আসতে পারে এ সিদ্ধান্ত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতীয় এক বোর্ড কর্তা জানিয়েছেন এ তথ্য। বোর্ডগুলোর চাহিদা অনুযায়ী দ্বিপাক্ষিক সিরিজকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে বলেও জানান সেই কর্তা। এদিকে বিসিসিআইয়ের কোষাধ্যক্ষ অরুন ধুমাল জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ায় এক ভেন্যুতেই পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে প্রস্তুত ভারতীয়রা। চলতি বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় টি-২০ বিশ্বকাপ নিয়ে ধোঁয়াশা শুরু হয় করোনার আগ্রাসনের পর থেকেই। একের পর এক দ্বিপাক্ষিক সিরিজ পেছানো হলেও সংক্ষিপ্ত সংস্করণের বিশ্ব আসর পেছানোর বিষয়ে কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। তবে টুর্নামেন্টটি পেছানোর পক্ষেই প্রভাবশালী বোর্ডগুলোর অবস্থান, সেটি পরিষ্কার।

এবার ভারতীয় এক কর্তা জানালেন, টি-২০ বিশ্বকাপ পেছাতে পারে ২০২২ সাল পর্যন্ত! চলতি মাসের ২৮ তারিখে বোর্ডগুলোর সঙ্গে আইসিসির সভায় বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। বৈঠকে তিনটি প্রস্তাবনা আসতে পারে।

প্রথমত, নির্ধারিত সময়েই বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে, খেলোয়াড়সহ সব কর্মকর্তাকে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন মেনে তারপর টুর্নামেন্টে খেলতে হবে, দর্শকদের অনুমতি থাকবে।

তৃতীয় অপশানেই যে ভারত কিংবা অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ডের আগ্রহ সেটি বোঝা যায় ওই বোর্ড কর্তার কথায়।

কোষাধ্যক্ষ অরুন ধুমাল বলেন, দেখুন ১৬ দলের খেলোয়াড়, কোচ-কর্মকর্তাসহ সবাইকে কোয়ারেন্টাইনে রাখতে গেলে প্রচুর খরচ পড়বে। সেই সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অনেক দেশে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। আবার ২-১ মাস পেছানোও যাচ্ছেনা, কারণ ২০২১ সালে নারীদের বিশ্বকাপ সহ বেশকিছু আইসিসি ইভেন্ট আছে। সবমিলিয়ে ২০২২ সাল পর্যন্ত পেছানোই বেশি যৌক্তিক। আর বোর্ডগুলো এই মুহূর্তে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে আগ্রহী বেশি। সেক্ষেত্রে আইসিসি তাদের চাওয়াকেই প্রাধান্য দিচ্ছে।

বোর্ডগুলোর চাওয়া বলতে দুই প্রভাবশালী বোর্ড ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া এবং ভারতীয় বোর্ড বিসিসিআইয়ের চাওয়া বিশ্বকাপ পেছানো। দুই বোর্ডেরই আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে দুই দলের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ। যেটি স্থগিত হলে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার ক্ষতি গুণতে হবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে। সেই ঝুঁকি নিতে চায়না তারা। প্রয়োজনে পূর্ণাঙ্গ সিরিজটি অ্যাডিলেডে খেলতে প্রস্তুত দুই দেশের বোর্ডই।

বিসিসিআই-এর কোষাধ্যক্ষ অরুণ ধুমাল বলেন, ক্রিকেটাররা মাঠের ফেরার জন্য মুখিয়ে আছে। যদি পরিস্থিতির কারণে একটি ভেন্যুতেই সব ম্যাচ খেলতে হয় সেক্ষেত্রে সবাই সেটিই করবে। এছাড়া দর্শকবিহীন মাঠে খেলা হবে, সেটিও অনেকের পছন্দ না, তারপরও কিছুই করার নেই আসলে। এখনো ৬-৭ মাস বাকি আছে, আমরা এরমধ্যে ক্রিকেটারদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ যেটি হবে সেই সিদ্ধান্তই নিবো।

সফরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪টি টেস্ট ও ৩টি ওয়ানডে খেলবে ভারত। সবগুলো ম্যাচই অ্যাডিলেডে আয়োজনের প্রস্তাব দেন অজিদের সহ অধিনায়ক ট্র্যাভিস হেড।

Check Also

নতুন জীবনের সূচনা করলেন মেহেদী

বাংলাদেশ ক্রিকেটে যেন পড়েছে বিয়ের ধুম। একের পর এক বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন অনেক ক্রিকেটার। মোসাদ্দেক, …