‘চলাচল সীমাবদ্ধ করতে না পারলে করোনার বিস্ফোরণ ঘটতে পারে ঢাকায়’


সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) অন্যতম উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) কার্যকরী সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন বলেছেন, মানুষের চলাচল সীমাবদ্ধ করতে না পারলে পুরো ঢাকা শহরটাই করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ডিপো হয়ে যাবে এবং সেই ডিপো থেকে সংক্রমণের ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।

দেশের লকডাউন পরিস্থিতি শিথিল, মার্কেটে ভিড়, ঈদে বাড়ি ফেরা, পরিবার-আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে মেশা এবং পরে রাজধানীমুখী হওয়া— করোনা ভাইরাস বিস্তার কোন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে, সেই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ডা. মুশতাক হোসেন।

ডা. মুশতাক হোসেন আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধ করতে হলে মানুষের চলাচল অবশ্যই সীমিত করতে হবে। শহরের প্রতিটা গলির মুখে, রাস্তার মোড়ে চেকপয়েন্ট করে খুব বেশি জরুরি কাজ ছাড়া বের হতে না দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। না হলে শহরটাই করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ডিপো হয়ে যাবে। এবং সেই ডিপো থেকে সংক্রমণের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। তাই এখনই আমাদের প্রতিটি এলাকাকে লকডাউন করতে হবে। শুধু পুলিশ নয়, স্বেচ্ছাসেবকও তৈরি করতে হবে। আমরা যদি নিজেরাই নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করি, সেটাই হবে সব থেকে বেশি কার্যকর। শুধু আইন দিয়েই হবে না। এলাকার ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং সামাজিক নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবক তৈরি করে তাদের ব্যাজ পরিয়ে কাজ করাতে হবে।

আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক এই কর্মকর্তা বলেন, ইতোমধ্যে করোনা ভাইরাস সংক্রমিত রোগীদের শনাক্ত করে কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা করতে হবে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় যেসব করোনা রোগী আছেন, তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে নিতে হবে। শহর এলাকায় ঘনবসতি এলাকা খুবই করোনা ভাইরাসের ঝুঁকিতে রয়েছে। ঘনবসতি এলাকায় এখনও করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ খুব বেশি করে শুরু হয়নি। শুরু হলে আমরা কিন্তু সেটা কন্ট্রোল করতে পারব না। কন্ট্রোল করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

যেভাবে মানুষ শহর থেকে গ্রামে ফিরছেন, এতে করোনার ঝুঁকি কতটা, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আক্রান্ত এলাকা থেকে লোকজন গ্রামে গেলে সংক্রমণ স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে। সামগ্রিক হিসেবে তখন করোনা ভাইরাস আক্রান্ত সংখ্যা অনেক বেড়ে যাবে। সারাদেশ ছড়িয়ে পড়বে। তাই যারা গ্রামে গেছেন, তাদের পরিবারের সদস্যদের থেকে আলাদা থাকতে হবে। অবশ্যই হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। যাদের বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা নেই, সেক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা করতে হবে। না হলে ঈদের আনন্দ বিষাদে পরিণত হতে পারে। প্রসঙ্গত, দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা পাঁচশ ছাড়ালো, এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০১ জনে। এছাড়াও গেল ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ৯৭৫ জন। এটিই একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড, এর আগে গত ২৩ মে সর্বোচ্চ ১৮৭৩ জন আক্রান্তের কথা জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আজ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩৫ হাজার ৫৮৫ জনে।

সোমবার (২৫ মে) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানান অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

Check Also

পুলিশ দরোজা ভেঙে দেখে খাটের উপর পড়ে আছে নববধূ তামান্নার দেহ

তামান্না বেগম, বয়স ১৯ বছর। মূল বাড়ি সিলেটের দক্ষিণ সুরমার ফুলদি গ্রামে। দুই মাস আগে …