বাঁধ ভেঙে পানি থৈ থৈ, সেখানেই ঈদের জামাত

কয়েক হাজার মানুষ পানিতে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। ঘটনাটি খুলনার সুন্দরবনের একেবারে কোলঘেঁষা কয়রা উপজেলায়। ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের কারণে কয়রা উপজেলার ২ নম্বর কয়রাসহ কমপক্ষে বিশ জায়গায় বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। এতে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে বিশাল এলাকা প্লাবিত হয়। এলাকাবাসী শুরু থেকেই নিজেরা নিজেদের চেষ্টায় বাঁধের ভাঙ্গন ঠেকানোর চেষ্টা করছিলেন। ২ নম্বর কয়রায় বাঁধের চার জায়গায় ভাঙনের সৃষ্টি হয়। সেখানে প্রতি জোয়ারেই পানি ওঠে। এলাকাবাসীও এবার পানি আটকানোর যথাসাধ্য চেষ্টা করছিল। এর মাঝেই আজ সোমবার মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। কিন্তু কোথায় ঈদের নামাজ আদায় করবেন, চারিদিকেই পানি থৈ থৈ।

ঈদগাহগুলোও পানির তলায়। একদিকে ঈদের নামজ আদায় করা, অন্যদিকে ভাঙা বাঁধ আটকানো না গেলে পানিতে তলিয়ে থাকা। ফলে এলাকাবাসী সিদ্ধান্ত নেন, তারা বাঁধ আটকানোর কাজ করবেন। আবার ঈদের নামাজও আদায় করবেন। তাই পানিতেই দাঁড়িয়েই ঈদের নামাজ আদায় করা হয়।

এলাকার যুবক ইমতিয়াজউদ্দিন, যিনি গত তিন দিন ধরে বাঁধ আটকানোর জন্যে স্বেচ্ছাশ্রমে মাটির কাজ করছিলেন, তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, উপয়ান্তর না দেখে এলাকাবাসী সিদ্ধান্ত নেয় পানিতে দাঁড়িয়েই ঈদের নামাজ আদায় করবেন। সিদ্ধান্ত মতো, সোমবার সকালে ২ নম্বর কয়রার হাজার পাঁচেক মানুষ পানিতে দাঁড়িয়েই ঈদের নামাজ আদায় করেন। একইসাথে বাঁধ আটকানোর কাজও চলে। শুধুমাত্র নামাজ আদায়ের সময় কাজ বন্ধ ছিল। তাঁরা বাঁধের একটি ভাঙন আটকাতে সক্ষম হয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে আরও দুই জায়গার ভাঙন আটকানো সম্ভব হবে।

Check Also

২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৩ মৃত্যু, শনাক্ত ৩১৬৩

দেশে মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৩৩ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে …