যারা করোনা মারা যাচ্ছে, তাদের শরীরে ভিটামিন ডি কম: দাবি গবেষকদের

মহামারী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের রোধে বিশ্বে এখন পর্যন্ত কোন প্রতিরোধক তৈরি করতে পারেনি। প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছেই। এই করোনার ছোবল থেকে ক্ষমতাধর রাষ্ট্রও রেহাই পায়ন। এ নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা, বিভিন্ন দেশের ঔষধ প্রতিশেধক বানানোর প্রচেষ্টা। এখন পর্যন্ত কোন দেশ চুড়ান্ত ঔষধ তৈরি করতে পারেনি। এ ভাইরাসের ব্যাপারে অনেক গবেষক ও বিজ্ঞানীরা অনেক মন্তব্য করেছেন। করোনার নিয়ে ইংল্যান্ডের অ্যাঙলিয়া রাসকিন ইউনিভার্সিটির গবেষক ডা. লি স্মিথ এবং কুইন এলিজাবেথ হসপিটালের ডা. পিটার ক্রিস্টিয়ান ইলি এ গবেষণা বলছে, শরীরে ভিটামিন ডি কম থাকার কারণে দ্রুত করোনা ভাইরাসের দ্বারা আক্রান্তের শঙ্কা থাকে। ইউরোপের দেশগুলোতে করোনা ভাইরাসে বেশি সংখ্যক মানুষের মৃত্যু এবং জনগণের শরীরে কম পরিমাণ ভিটামিন ডি থাকার কথা এ গবেষণায় উঠে আসে।

তাদের করোনা গবেষণার ব্যাপারে এজিং ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড এক্সপেরিমেন্টাল জার্নালে বলা হয়েছে, শ্বেত রক্ত কণিকা প্রাণবন্ত করে তোলার কাজ করে ভিটামিন ডি। কিন্তু শরীরে এর মাত্রা কম থাকলে ভাইরাস দ্রুত সংক্রমণ ঘটায়। করোনা ভাইরাস মূলত রোগীদের শরীরে ভিটামিন ডি এর পরিমাণ কম থাকার সুযোগ নিচ্ছে। ইতালি এবং স্পেনে করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর হার বেশি। এই গবেষণায় দেখা গেছে, উত্তর ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ওই দুই দেশের মানুষের শরীরে ভিটামিন ডি এর পরিমাণ কম। কারণ, হিসেবে গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, সেসব দেশে বয়স্ক ব্যক্তিরা সূর্যের আলোতে সেভাবে থাকতে চান না। সে কারণে প্রাকৃতিক ভিটামিন ডি থেকে তারা বঞ্চিত হন। সূর্যের আলোতে থাকতে অনীহার কারণে শরীরে গড় ভিটামিন ডি সেসব দেশের মানুষের কম।

ডা. লি স্মিথ বলেন, ইউরোপের ২০টি দেশে আমরা পরিসংখ্যান চালিয়ে দেখেছি, যারা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে, তাদের শরীরে ভিটামিন ডি কম। ভিটামিন ডি পারে করোনা সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে। যাদের শরীরে ভিটামিন ডি এর উপস্থিতি কম, করোনা আক্রান্ত হলে তাদের পরিস্থিতি জটিল হয়ে যাচ্ছে। যারা গুরুতর আক্রান্ত অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছে, তাদেরও ভিটামিন ডি এর অভাব দেখা যাচ্ছে। ভিটামিন ডি করোনা প্রতিরোধের জন্য শরীরে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

Check Also

গরমকালের বউ, মাত্র ২০ দিনের জন্য

মুসলিম পুরুষদের শর্ত সাপেক্ষে চার স্ত্রী গ্রহণের বিধান রয়েছে ইসলাম ধর্মে। তাই বলে কেবল গ্রীষ্মকালের …