Advertisements

একটি মৃত্যু ও হৃদয় বিদারক ছবি

image-162119-1591780293 একটি মৃত্যু ও হৃদয় বিদারক ছবি

করোনার উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ নগরীর এসকে হাসপাতালের ভেন্টিলেশনে গত রোববার ড. দেবাশীষ দাস (৫২) এক গার্মেন্টস কর্মকর্তার মৃত্যু হয়। তার স্ত্রী উমা দাস ময়মনসিংহের সহকারী জেলা ও দায়রা জজ। ড. দেবাশীষ ঢাকার ফকিরা গ্রুপের গার্মেন্টস বিভাগের এইচআর বিভাগের প্রধান ছিলেন। তার বাড়ি সাভারের শিমুলিয়ায়। মৃত্যুর পর দেবাশীষের পজেটিভ রিপোর্ট আসে।

স্বামীর মৃত্যুর পর বেশ ভালো বেকায়দায় পড়েন উমা রানি। শশ্মানে তাকে শেষকৃত্য করার মতো পরিবার কিংবা নিকটজন কেউ আসেনি! সৎকারে নিতে হয়েছে মুসলমান ভাইদের সাহায্য। সৎকার করতে সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসেন সমাজকর্মী ইউছুফ আলীসহ কয়েকজন সমাজকর্মী। উমা দাস এবং দেবাশীষ দাসের একটি মাত্র সন্তান, সেই পুত্রের হাতের ছোঁয়া কাঠি এনেছেন উমা রানি দাস। নিজেই তার স্বামীর গোসলসহ মুখাগ্নি করলেন!

উমা রানি দাসের স্বামীর মুখাগ্নি করার ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এমন মর্মস্পর্শী ছবি ছড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সকলেই সমবেদনা জানাচ্ছেন। বলছেন, ‘করোনা আমাদের অমানবিক করে দিয়ে গেল।’ দেবাশীষের শেষযাত্রায় এমন অমানবিক হতে হবে, কাউকে সাথে পাওয়া যাবে না, এমন দৃশ্যগুলো যে শুধু উমা রানি দাসের সাথেই ঘটছে তা নয়। এমন কিছু ঘটনা ঘটছে সত্যিই মর্মান্তিক বলে মনে করছেন নেটিজেনরা। উমার এই ছবি যতই ছড়াচ্ছে ততই বুক ভেঙে যাচ্ছে মানুষের। একা একজন স্বামীর সৎকারের দায়িত্ব তুলে নেন, অথচ এমনটি কখনোই হবার কথা ছিল না।

Advertisements

শ্মশানে পুড়ছে স্বামীর লাশ! চিৎকার করে বলছেন উমা দাস, ‘এখনো যে স্বামীর কাছ থেকে বিয়ের সার্টিফিকেট নিলাম না অথচ তার আগেই তার ডেথ সার্টিফিকেট নিতে হবে আমাকে! আমার সন্তান ওর বাবাকে খুঁজলে আমি কি জবাব দিব? কেন সে আমাকে একা ফেলে চলে গেল?’

উমা দাসের কান্নায় শ্মশানের আকাশ বাতাস ভারী হয়ে আসে। উমার এই ছবি ও ঘটনা শেয়ার করে নেটিজেনরা বলছেন, ছবিটা কষ্টে বুক ভেঙে দিচ্ছে।

এই কাজে ইউসুফের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ও স্বেচ্ছাসেবক বিমল পাল, সাফরান, আশরাফ, শ্যামল পাল, সুজন এবং বিনয় দত্ত।

মুক্তিযোদ্ধা বিমল পাল বলেন, কে কোন ধর্মের অনুসারী, সেটি বাংলাদেশে মুখ্য কোনো বিষয় নয়। আমরা সবাই মানুষ, যারা একে অপরের বিপদে এগিয়ে আসি। সম্প্রীতির মেলবন্ধনই আমাদের ঐতিহ্য।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সমন্বয়ক শিব্বির আহমেদ লিটন বলেন, করোনাকালের এই সময়ে মৃত ব্যক্তির দাফন বা সৎকারের কাজে স্বেচ্ছাসেবীরা যেভাবে এগিয়ে এসেছে তা প্রশংসনীয়। নিজেরা ঝুঁকিতে পড়বে জেনেও তারা কাজটি করেছে, যেখানে ধর্ম কোনো বাধা নয়।

Advertisements

Check Also

অভিজাত এলাকায় বিচরণ ডিজে নেহার, চলত উদ্যাম নৃত্য

ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে অতিরিক্ত মদপান করিয়ে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় …