‘কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে জামাই আদর চাইলে তো মুশকিল’

কোয়ারেন্টাইন সেন্টারগুলো চরম অব্যবস্থার অভিযোগ করেছেন ভারতের বীরভূম রাজ্যেরবিভিন্ন জেলায় বিরোধীরা। তাদের বক্তব্য, কোথাও পানি নেই, কোথাও খাবার পাচ্ছেন না ভিন্ন রাজ্য থেকে ফেরা শ্রমিকরা। কোথাও সামাজিক দূরত্বকে শিকেয় তুলে বহু লোককে রাখা হয়েছে একসঙ্গে। এমনকি বহরমপুরের সাংসদ অধীর চৌধুরী তার জেলার কোয়ারেন্টাইন সেন্টারগুলো খোয়াড়ের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

এ সব নিয়ে বিক্ষিপ্ত ভাবে ক্ষোভ বিক্ষোভ যখন চলছে, তারই মধ্যে আলটপকা এমন মন্তব্য করে বসলেন বীরভূমের তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায় যে, তা নিয়ে নতুন বিতর্কের মেঘ জমেছে রাজনীতিতে।

শনিবার (৬ জুন) সাঁইথিয়ায় পৌঁছে বিভিন্ন কোয়ারেন্টাইন সেন্টার ঘুরে দেখতে বের হন সাংসদ। সেখানেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শতাব্দী বলেন, সবাই যদি জামাই আদর চান সেটা দেওয়াটা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে! মাছ দিলে বলছে মাংস দেয়নি, মাংস দিলে বলছে ডিম দেয়নি!” এখানেই থামেননি তিনবারের সাংসদ। তিনি বলেন, “আপনার বাড়িতে একজন এলে যে যত্নটা করতে পারবেন এক হাজার লোক এলে সেটা পারবেন না। এত হাজার হাজার মানুষ আসছেন। তাঁরা বাড়ি ফেরার জন্য অস্থির। এটা একটু হবেই!”

আপাত ভাবে শতাব্দীর মূল বক্তব্য নিয়ে কোনও বিরোধ হওয়ার কথা নয় বলেই অনেকের মত। কারণ, একে সরকারের অর্থ সংকট চলছে। তার উপরে এত মানুষের আশ্রয় ও খাবারের ব্যবস্থা করাও চাপের। তাই মোটামুটি ভাবে একটি অভিন্ন ব্যবস্থা তৈরি কথা বলেছিল নবান্ন।

কিন্তু বিরোধীদের বক্তব্য নবান্ন যা বলে, সেটা বলার জন্য বলা। কাজের নিয়ম আলাদা। ন্যূনতম প্রয়োজনের জিনিসই বহু কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে অমিল। রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু শতাব্দীর মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বলেছেন, “তৃণমূল দলটা যে পরিযায়ী শ্রমিকদের কুকুর-ছাগল ভাবে তা শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছে। প্রথমে রাজ্যে ফেরাতেই চাইছিল না। এখন চাপে পড়ে ফেরালেও তাঁদের ন্যূনতম খাবার, জল সরকার দিতে পারছে না।”

আবার সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য তথা প্রাক্তন সাংসদ শমীক লাহিড়ীর কথায়, “কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে কেউ জমাই আদর চাইছেন না। দু’বেলা দু’মুঠো পেট ভরার মতো ডাল-ভাত চাইছেন। সেটাও সরকার দিচ্ছে না। এটা কি দাস ব্যবস্থা চলছে নাকি?” তিনি আরও বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, কোটি কোটি টাকা খরচ করছে সরকার। আর বিডিওরা বলছেন কোনও টাকা আসছে না। শাসকদল পুরো টাকা লুঠ করে নিচ্ছে।”

শতাব্দীর মন্তব্যের নিন্দা করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্রও। তিনি বলেন, “ভোটের আগে এই গরিব মানুষগুলোই ওঁর কাছে ‘জামাই’ ছিলেন। আর যেই ভোটে জেতা হয়ে গিয়েছে তখন দারিদ্র নিয়ে তামাশা করা হচ্ছে।”

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই ঘোষণা করেছিলেন ভিন রাজ্য থেকে ফেরা সবাইকে সরকারি কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে রাখার পরিকাঠামো সরকারের নেই। সংক্রমণের শীর্ষে থাকা পাঁচটি রাজ্য– মহারাষ্ট্র, গুজরাত, দিল্লি, মধ্যপ্রদেশ, তামিলনাড়ু থেকে ফিরলেই কেবল সরকারি কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে। বাকিদের থাকতে হবে হোম কোয়ারেন্টাইনে।

রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে খাবার, জল না পেয়ে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। বিভিন্ন জায়গায় দেখা গিয়েছে খোলা মাঠে ছাউনি করে থাকতে হচ্ছে পরিযায়ী শ্রমিকদের। এই পরিস্থিতিতে জামাই আদরের বিশেষণই গায়ে বিঁধেছে অনেকের। এবং তাতেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

Check Also

গরমকালের বউ, মাত্র ২০ দিনের জন্য

মুসলিম পুরুষদের শর্ত সাপেক্ষে চার স্ত্রী গ্রহণের বিধান রয়েছে ইসলাম ধর্মে। তাই বলে কেবল গ্রীষ্মকালের …