গাইবান্ধায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগ

নিজের বাড়িতে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার এক কিশোরী গৃহকর্মীকে (১৫) জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে গাইবান্ধা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইউনুস আলী (৫৫)’র বিরুদ্ধে।

এই ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে গাইবান্ধা সদর থানায় ওই ধর্ষিত কিশোরীর দাদি বাদি হয়ে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় জেলা শহর ও সুন্দরগঞ্জে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের বিচার দাবি করেছেন নির্যাতিতার স্বজন ও সচেতন মানুষ।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক সুন্দরগঞ্জের তারাপুর ইউনিয়নের নওহাটী গ্রামের হাবিবুর রহমান ওরফে হবিয়া মিয়ার ছেলে এবং ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরী লম্পট শিক্ষকের আপন চাচাতো ভাইয়ের মেয়ে। প্রায় তিন বছর আগে মেয়েটিকে গৃহকর্মী হিসেবে শিক্ষকের গাইবান্ধা শহরের বাড়িতে পাঠানো হয়। সে সময় কথা ছিল তাকে লেখাপড়া করানো হবে এবং বড় হলে বিয়ের ব্যবস্থা করবেন ইউনুস।

ওই শিক্ষক গত ৮-৯ মাস ধরে জেলা শহরের থানাপাড়ায় নিজ বাড়িতে ওই কিশোরী গৃহকর্মীকে ফুসলিয়ে ও নানা প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিকভাবে মেলামেশা শুরু করেন। তাকে উপর্যুপরি ধর্ষণ করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ কিশোরীকে পরিবারের অন্যদের চাপে তাদের সুন্দরগঞ্জের বাড়িতে রেখে আসা হয়।

গাইবান্ধা থানা চত্বরে কিশোরীটির দাদি বলেন, বাড়িতে রেখে আসার সময় ইউনুস মেয়েটি সারাক্ষণ মোবাইলে বিভিন্নজনের সঙ্গে কথা বলে এবং একাধিক শারীরিক সম্পর্কে জড়িত বলে তাদের জানান। পরে সন্দেহ হলে মেয়েটিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে ইউনুসের যৌন নির্যাতনের ঘটনা স্বীকার করে।

গৃহকর্মী জানায়, সরকারি বালক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ধর্ষণের পর ঘটনাটি কাউকে না জানাতে ধর্মগ্রন্থ ও তার শরীর স্পর্শ করে শপথ করান ওই শিক্ষক। এরপর থেকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও ব্লাকমেইল করে কিশোরীটিকে নিয়মিত যৌন নির্যাতন চালাতেন ইউনুস।

এ ব্যাপারে গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খান মো. শাহরিয়ার ধর্ষণ মামলা দায়েরের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ ব্যাপারে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং দ্রুত অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

Check Also

বরিশালের বিভিন্ন সড়কে ‘Sorry’ লেখা নিয়ে রহস্য!

বরিশাল নগরীর বেশ কয়েকটি সড়কে রঙ দিয়ে ইংরেজিতে ‘Sorry’ শব্দ লেখা নিয়ে ইতোমধ্যে রহস্যের সৃষ্টি …