হতাশা দূর করবে যেসব খাবার

বাইরে থেকে দেখে যতই সুখী আর সমৃদ্ধ মনে হোক না কেন, ভেতরে ভেতরে নিঃস্ব হয়ে যেতে পারে যে কেউ-ই। মানসিক নানা চাপ থেকে ভর করতে পারে ডিপ্রেশন বা হতাশা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে কম-বেশি আমরা সবাই মনের অসুখে আক্রান্ত।

হতাশা ও উদ্বেগ গভীর আকার নিলে তখন তা চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। এই সময়ে প্রিয়জনের সান্নিধ্য দরকার, দরকার বাড়তি কিছু যত্নের। ক্ষেত্র বিশেষে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের দ্বারস্থও হতে হয়। তবে কিছু খাবার আছে যা খেলে হতাশা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। কারণ এগুলো আপনাকে ভেতর থেকে চাঙ্গা করে তুলবে অনেকটাই।

হতাশা কাটাতে কী খাবেন, তা জানার আগে দেখে নিন কী খাবেন না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি পেতে দুগ্ধজাত খাবার, চিনি, বেশি মিষ্টি জাতীয় খাবার, ক্যাফেইন বর্জন করতে হবে। একেবারে এই সব খাবার ছাড়তে না পারলে সামান্য পরিমাণ খান। এগুলো আপনি কতটা পরিমাণ খাবেন, তা ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলেই ঠিক করুন।

আপেল: শুধু শরীরের নয়, মনের স্বাস্থ্যের জন্যও আপেল অত্যন্ত উপকারী। ডিপ্রেশন কাটাতে রোজ একটা করে আপেল অবশ্যই খাবেন। আপেলের মধ্যে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা কোষের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায় এবং মন-মেজাজ ভালো রাখতে সাহায্য করে।

সবুজ পাতাওয়ালা সবজি: সবুজ পাতাওয়ালা সবজি শরীরের পাশাপাশি মনের জন্যও অপরিহার্য। ক্যান্সার এবং আরও নানা অসুখের থেকে রক্ষা করে সবুজ পাতাওয়ালা সবজি। পালং শাক, পুঁই শাক, লেটুস পাতা প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অবশ্যই রাখুন। এগুলি মস্তিষ্কের কোষের উন্নতি ঘটায় এবং ডিপ্রেশনের ওষুধ হিসেবে কাজ করে।

টার্কি/টুনা/চিকেন: মন ভালো রাখতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রোটিন কিন্তু মাস্ট। টার্কি, টুনা, চিকেন, বিনস এবং সয়াবিন রোজই খান। এগুলো আপনার মনকে সজাগ ও সতর্ক করে তুলবে এবং ঝিমিয়ে পড়া অনুভূতিগুলোকে জাগিয়ে তুলবে। খাদ্যতালিকায় রোজ প্রোটিন থাকলে অবসাদ গ্রাস করতে পারে না।

টমেটো: টমেটোতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আলফা-লিপোলিক অ্যাসিড এবং ফলিক অ্যাসিড। অবসাদ কাটাতে এই দুটির ভূমিকাই উল্লেখযোগ্য। গবেষণায় দেখা গিয়েছে অবসাদে ভোগা মানুষদের এক তৃতীয়াংশের শরীরেই আলফা-লিপোলিক অ্যাসিড এবং ফলিক অ্যাসিডের অভাব রয়েছে। তাই রোজ টমেটো খেতে ভুলবেন না।

আখরোট: আখরোটে রয়েছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। এই ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড মস্তিষ্ককে সক্রিয় করে তুলতে সাহায্য করে। অনেক সময় দেখা গিয়েছে মস্তিষ্ক যথেষ্ট সজাগ না থাকলে ডিপ্রেশন আসতে পারে। মস্তিষ্কের ৮০ শতাংই লিপিড দিয়ে তৈরি। তাই আখরোটে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট মস্তিষ্কের জন্য খুবই ভালো।

Check Also

সমবয়সী মেয়েকে বিয়ে করলে কী হয় জানেন?

স্বামীর বয়স স্ত্রীর বয়সের দ্বিগুণ হওয়াটা বেশ কিছুদিন আগেও ছিল স্বাভাবিক বিষয়। সময়ের পরিবর্তনে শিক্ষিত …