২০ বছর ধরে যে কারণে একই রঙের শার্ট পরছেন শাইখ সিরাজ

কৃষি উন্নয়ন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ নানামুখী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে গ্রামীণ জীবনে জাগরণ সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করছেন। তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে জনপ্রিয় কৃষিভিত্তিক অনুষ্ঠান ‘মাটি ও মানুষ’ ও বেসরকারি টিভি চ্যানেল চ্যানেল আইতে ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’ উপস্থাপনা করেন।

প্রতিটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে একই রঙের শার্ট পরতে দেখা যায় শাইখ সিরাজকে। তাই অনেকে তাকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনার আর কোনো শার্ট নেই?’ তিনি হেসে উত্তর দেন, ‘না ভাই; ২০ বছরে ২০টা শার্ট, কিন্তু একই রকম!’ শাইখ সিরাজের জলপাই রংয়ের শার্ট পরার নেপথ্যে নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে।

এক সাক্ষাৎকারে শাইখ সিরাজ জলপাই রংয়ের শার্ট পরার নেপথ্য কারণ জানিয়েছেন, তা হুবহু তুলে ধরা হলো—

আমি টেলিভিশনে যখন প্রথম অনুষ্ঠান শুরু করি, তখন পর্দার একটা ভাষা ছিল। টেলিভিশনে শুদ্ধ ভাষা ছাড়া কথা বলা যেত না। নাটকের কোনো একটা অংশে যদি আঞ্চলিক কথা ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে, তাহলে আগে থেকেই তা সেন্সর করিয়ে নিতে হতো। সেটাও খুব সংক্ষিপ্ত হতে হবে। এখন তো পুরো নাটকই একটা আঞ্চলিক ভাষায় করা হয়।

আমি প্রথম যখন টেলিভিশনে অনুষ্ঠান শুরু করলাম, তখন শহরের ভাষায় কৃষকের সঙ্গে কথা বলতে হতো। যেমন, মাইক্রোফোন এগিয়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করতাম, ‘আপনি যে চাষ করছেন তাতে লাভ হচ্ছে?’ এই যে শহরের ভাষা, তা কিন্তু একজন সাধারণ ‍কৃষক বোঝে না। সে আমার মতোই শহরের মানুষ হতে গিয়ে তার নিজস্বতা ভুলে যায়। তখন বলতে শুরু করেন, ‘আমি চাষ করেছিলাম, কিন্তু লাভ তো হয় নাই।’

তার মানে, এটা তার মনের কথা না। এভাবেই তাদের সঙ্গে আমার দূরত্ব বাড়ছে। কিন্তু এই দূরত্ব তো কমিয়ে আনতে হবে। তাই আমি একটা নিজস্ব ভাষা তৈরি করলাম। তখন আমার প্রশ্নটা এমন হতো, ‘আপনি যে চাষ করছেন, এতে কি লাভ হইছে? নাকি লস হইতেছে?’ এতে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ঢাকা, কুষ্টিয়াসহ সব জায়গার মানুষই বুঝতে পারেন।

নিজস্ব ভাষা দিয়ে যখন অনুষ্ঠান শুরু করলাম, অনেকেই প্রতিবাদ করলো। বললো, এই ভাষা টেলিভিশনে ব্যবহার উপযোগী না। তখন নাসিরউদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু টেলিভিশনের প্রযোজক ছিলেন; তিনি এবং মোস্তফা মনোয়ার আমার পাশে দাঁড়ালেন। ভাষা তো মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্যই; আমি তার মতো বললেই তো কৃষক মনের কথা বলবেন। অতএব এটা বিশেষ অনুষ্ঠানে হতে পারে।

আরেকটা কথা হচ্ছে, টেলিভিশন একটা জৌলুসের জায়গা। টেলিভিশন চকচক করতে হবে সবসময়। কিন্তু আমার কাছে মনে হলো যে মানুষগুলোর পেটে খাবার নেই, যার গেঞ্জিটা ছেঁড়া, সে মানুষটির কাছে যদি আমি প্রতিদিন একেক পোশাকে যাই তাহলে কি আমাকে আপন করে নেবে? সে কোনোদিনই আমাকে আপন ভাববে না। তাই ভাবলাম এমন একটি শার্ট পরা দরকার, যেটার দেখলেই তার কাছে আপন মনে হবে।

সবুজ একজন কৃষকের আপন রঙ। যেহেতু আউটডোর অনুষ্ঠান, তাই ফরশাল শার্ট মানাবে না। তাই পাইলট শার্ট পরা শুরু করলাম। তাই সবাই বলেন, ‘ভাই, আপনার কি একটাই শার্ট?’ প্রথম দিকে কৃষককে বোঝানোর জন্য আমি বেশি কথা বলতাম, এখন কিন্তু তাদেরকেই স্ক্রিনে আসতে দিই বেশি। আমি থাকি নেপথ্যে। স্ক্রিনে আমার শার্টের শোল্ডার দেখলেও অনেকে বুঝে ফেলেন যে, এটা শাইখ সিরাজ।

Check Also

ইমো ও ফেসবুক ব্যবহারে নিষেধ করায় প্রবাসীর স্ত্রী আত্মহত্যা!

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় ফেসবুক ব্যবহারে নিষেধ করায় এক প্রবাসীর স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। …