আপনি কি সঙ্গীর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল?

ভালোবাসার সম্পর্কগুলোতে নির্ভরশীলতা এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু এই সম্পর্কগুলোতে যখন একজন অপরজনের প্রতি অসম্ভব নির্ভরশীল হয়ে ওঠে তখন তা রূপ নেয় কোডিপেন্ডেন্ট সম্পর্কে। যা কেবল সমস্যাই সৃষ্টি করে না বরং এটি কোনো মানুষের ব্যক্তিসত্ত্বার জন্যও অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক।

প্রথমদিকে সবকিছু সঠিক মনে হয়, কিন্তু পরিশেষে এরকম সম্পর্ক অপরজনের কাছে বোঝা মনে হয়। হয়তো আপাতদৃষ্টিতে ব্যাপারটি স্বাচ্ছন্দ্যদায়ক মনে হচ্ছে তবে পরবর্তীতে তা ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এজন্যই নিজের তৃপ্তির জন্য কাউকে ভালোবাসা এবং তার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার মধ্যে পার্থক্য করা শিখতে হবে। যদিও ক্ষণিক সময়ের জন্য এটি আনন্দের অনুভূতি জাগায় তবে পরিণামে সেটি কোনো ব্যক্তির স্বতন্ত্রতা এবং ব্যক্তিত্বকে নষ্ট করে তোলে। তাই, আপনি কোনো স্বনির্ভর সম্পর্কের মধ্যে আছেন কি-না সেই সন্দেহ দূর করতে কয়েকটি সতর্কতা প্রকাশ করছে টাইমস অফ ইন্ডিয়া।

দ্বিমত থাকলেও তার সবকিছুতে ‘হ্যাঁ’ বলা
মতবিরোধ কিংবা তর্ক-বিতর্ক সম্পর্কের একটি অংশই বলা চলে। আপনি যদি ঝগড়া না করে, যুক্তিসঙ্গত কথা বলেন তাতে দোষের কিছু নেই। কিন্তু আপনার মত না থাকলেও তার সবকিছুতে সম্মতি জানাতে থাকলে বুঝবেন, আপনাদের সম্পর্কের কোথাও একটা ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে কিংবা আপনি তার ওপরে অতিরিক্ত নির্ভরশীল। যে কারণে আপনি সব ব্যাপারে সম্মত হচ্ছেন। বিশেষত যখন আপনি এমন কোনো কিছুতে সম্মত হন যা আপনি বিশ্বাস করেন না, কিন্তু বিশ্বাস না করা সত্ত্বেও সে আপনাকে ছেড়ে চলে যেতে পারে এই ভয়ে সেটি মেনে নেন। এটি অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার প্রধান লক্ষণ, আপনাকে অবশ্যই এটি কাটিয়ে উঠতে হবে।

সঙ্গীর প্রয়োজনকে নিজের থেকেও বেশি অগ্রাধিকার দেয়া
আপনি কি কেবল নিজের সঙ্গীর খাতিরে নিজের চাওয়া-পাওয়া ছেড়ে দিয়ে থাকেন? উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তবে এর অর্থ হলো আপনি নিজের থেকেও বেশি তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন এবং এটি গুরুতর চিন্তার বিষয়ও বটে। আপনি এমনটা করেন কারণ আপনি তাদের সন্তুষ্ট করতে বাধ্য হন এবং তাদেরকে খুশি রাখতে চান। ফলে আপনার জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের সঙ্গে সে জড়িয়ে থাকে।

ব্যক্তিত্ব হারিয়ে ফেলা
আপনি যখন আপনার সঙ্গীর সুখ বা অনুভুতিকে আপনার চেয়ে বেশি গুরুত্ব এবং অগ্রাধিকার দেন সেক্ষেত্রে এটি আপনার স্বতন্ত্রতা এবং মূল্যবোধের করুণ পরিণতি ডেকে আনবে এটাই স্বাভাবিক। এরকম স্বনির্ভর সম্পর্কের মধ্যে থাকলে আপনি সর্বদা নিজেকে কম গুরুত্বপূর্ণ বোধ করবেন এবং আপনার নিজের প্রতি নিজের যে আত্মবিশ্বাস ও পবিত্র অনুভূতি সেগুলো হারিয়ে ফেলবেন।

কোনো কাজ একা করতে না পারা
কোনো সম্পর্কের ক্ষেত্রে, আপনার নিজের ব্যক্তিগত স্পেসটা রাখা শিখতে হবে। আপনার স্বতন্ত্রতার মূল্য বোঝাটা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারনে মানুষ সেই চিন্তাশক্তি হারিয়ে ফেলে। যদি আপনি সবকিছুতেই আপনার সঙ্গীর ওপর খুব নির্ভরশীল হন তবে এটি স্পষ্ট যে, আপনি একা কোনো কাজ করতে পারবেন না, বা কোনো সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘স্পেস’-এর গুরুত্ব বুঝতে পারবেন না, যা পরিণামে আপনার সম্পর্কের মৃত্যুও ঘটাতে পারে।

শর্ত এবং সীমাবদ্ধতা
একটি সম্পর্ক ভালোবাসা এবং মায়ার জালেই ঘেরা থাকে। কিন্তু আপনি সঙ্গীর প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরশীল হলে সে আপনাদের সম্পর্ককে কঠোরভাবে বিভিন্ন শর্ত দ্বারা আবদ্ধ করে ফেলবে। আপনি যা করতে চান তা নিয়ে পরস্পরের মধ্যে যুদ্ধের মতো লড়াই চলবে। কারণ একদিকে আপনি আপনার সঙ্গীর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চান আবার অন্যদিকে আপনার ব্যক্তিগত প্রয়োজনগুলোর দিকেও ঝুঁকতে চান। আর সেজন্য আপনার জীবন অত্যন্ত সীমাবদ্ধ এবং সংকীর্ণ হয়ে ওঠে।

সব সিদ্ধান্তে সঙ্গীর অনুমতি চাওয়া
সম্পর্কে অতিরিক্ত নির্ভরশীল থাকার অন্যতম নিশ্চিত লক্ষণ হলো, আপনি সব সময় আপনার সমস্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে সঙ্গীর অনুমতি খোঁজেন। তাদের ছাড়া এবং তাদের মতামত ব্যতীত আপনার সিদ্ধান্ত নেয়া কিংবা আপনার পছন্দে কাজটা করা অনেক কঠিন হয়ে পরে। এমনকী আপনি যদি কোনো বিষয়ে নিশ্চিতও হন তারপরও সেক্ষেত্রে আপনার সঙ্গীর অনুমতির অপেক্ষা করেন।

Check Also

অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার কারণে যেসব রোগ হতে পারে

দুশ্চিন্তা আমাদের এমন এক সঙ্গী, না চাইতেও যে সঙ্গে সঙ্গে থাকে। একটি দূর হতে না …