জাস্ট ৪ দিন খালি পেটে কিশমিশ ভেজানো পানি খান, নিজেই দেখুন পরিবর্তন!

পোলাও হোক বা পায়েস, একটু কিশমিশ (raisin) পড়লেই তার স্বাদ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। বাঙালির ফ্রায়েড রাইসে একটু ছড়িয়ে দিলেও তার স্বাদ নিয়ে ভাবতে হয় না। আবার শুধু শুধুও কাজু বাদামের সঙ্গে কিসমিস খেতে ভাল লাগে। কিশমিশ (raisin)যেমন ফল হিসেবে খাওয়া যায়, তেমনই ড্রাই ফ্রুট হিসেবেও খাওয়া যায়। আবার কেক বা পুডিং-এর স্বাদ বাড়াতেও দেওয়া যায় কিশমিশ (raisin)। বেশি দামও নয় কিশমিশের। এ দিকে গুণের কথা বলতে গেলে দামের সঙ্গে কোনও তুলনাই হয় না।

রক্তাল্পতায় কিশমিশ যে উপকারী, সেটা অনেকেই জানেন। কারণ, কিশমিশ শরীরে নতুন রক্ত তৈরি করে। কিন্তু, এটা জানা আছে কি, আপনার লিভার বা যকৃত্‍‌ পরিষ্কার করতেও কিশমিশের জুরি নেই? হ্যাঁ, নিয়মিত কিশমিশের পানি লিভার সাফ হয়।
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কিশমিশের পানি (raisin water) খেলে লিভারে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। যার দরুন শরীরের অভ্যন্তরে দ্রুত রক্ত পরিশোধন হতে থাকে। অন্তত টানা চার দিন কিশমিশের পানি (raisin water) পান করলে, পেট একদম পরিষ্কার হয়ে যাবে। পেটের গন্ডগোল থাকবে না। সেইসঙ্গে ভরপুর এনার্জি পাবেন।

অনেক চিকিৎসক রোগীকে ওষুধের পাশাপাশি কিশমিশ প্রেসক্রাইব করেন। কারণ, কিশমিশ হার্টকে ভালো রাখে। সেইসঙ্গে শরীরের পক্ষে ক্ষতিকারক যে কোলেস্টেরল রয়েছে, তা দূর করে। কিশমিশে রয়েছে নানা ধরনের ভিটামিন ও মিনারেল। কিশমিশ না-খেয়ে শুধু কিশমিশের পানি খেলেও সেই ভিটামিন ও মিনারেল শরীরে ঢোকে। পানি ভেজানোর আর একটা কারণ শর্করার মাত্রা কমে। রক্ত পরিষ্কার করতে কিডনির পাশাপাশি লিভারকেও ভালোভাবে কাজ করতে হবে। তাই লিভার ও কিডনির সমস্যা হলে, ক্ষতিকারক পদার্থ শরীরে জমতে শুরু করে আমাদের অসুস্থ করে তোলে। তাই লিভার ও কিডনিকে সবসময় চাঙ্গা রাখতে হবে। কিশমিশ ভেজানো পানি সেই কাজটাই ভালোভাবে করে। যার দরুণ হজমশক্তিও বাড়ে।

কিশমিশের পানি (raisin water) কী ভাবে তৈরি করবেন

২ কাপ পানি (৪০০ এমএল) ও ১৫০ গ্রাম কিশমিশ লাগবে। কী ধরনের কিশমিশ কিনছেন, সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। খুব চকচক করছে, এমন কিশমিশ কিনবেন না। তাতে কেমিক্যাল মেশানো থাকে। চেষ্টা করুন গাঢ় রঙের কিশমিশ কিনতে। তা-ও এমন কিশমিশ নিতে হবে, যা খুব শক্তও না আবার একদম নরম তুলতুলেও না। কিশমিশগুলোকে ভালো করে কয়েক বার ধুয়ে নিন। এরপর একটি পাত্রে দু-কাপ পানি দিয়ে রাতভর কিশমিশ ভিজিয়ে রাখুন। সকালে কিশমিশ ছেকে নিয়ে, সেই পানিটা হালকা গরম করে সকালে খালি পেটে খেয়ে নিন। ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট অন্য কিছু খাবেন না। এ ভাবেই পরপর চার দিন খেতে হবে। তা হলেই নিজেই পরিবর্তন বুঝতে পারবেন।

কিশমিশে পর্যাপ্ত পরিমাণে কার্বহাইড্রেট থাকে। কিশমিশ ভেজানো পানি তাই মহিলাদের পক্ষে উপকারী। মহিলারা রক্তাল্পতায় ভোগেন। তাই চিকিৎসকরা তাঁদের কিসমিস খাওয়ার পরামর্শ দেন।

কিশমিশ ভেজানো পানি খেলে কিডনির নানা সমস্যা থেকে দূরে থাকা যায়। লিভারও সুস্থ থাকে।

কিশমিশে পটাশিয়াম থাকে, যা হার্টকে ভাল রাখে। শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলকেও দূরে রাখে কিসমিস।

যাঁরা নিয়মিত পেটের ও হজমের সমস্যায় ভোগেন, তাঁদের জন্য এই টোটকা খুবই উপকারী। এতে পেট পরিষ্কার থাকে।

এই সময় ডিজিটালের লাইফস্টাইল সংক্রান্ত সব আপডেট এখন টেলিগ্রামে। সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন এখানে।

Check Also

জ্বর সারানোর ঘরোয়া উপায়

হুটহাট জ্বর চলে আসা এই সময়ে অস্বাভাবিক নয়। বাতাসে ঋতু বদলের ঘ্রাণ। প্রকৃতির পরিবর্তনের সঙ্গে …