অভিজাত এলাকায় বিচরণ ডিজে নেহার, চলত উদ্যাম নৃত্য

ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে অতিরিক্ত মদপান করিয়ে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার হন বান্ধবী ফারজানা জামান নেহা। এর পর থেকেই আলোচনায় চলে আসেন ডিজে নেহা।

ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকলেও বৃহস্পতিবার রাতে আজিমপুরের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাকে আটকের পর কিছু ভিডিও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, ডিজে নেহার উদ্যাম নাচানাচি।

পুলিশ বলছে, রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় পার্টির আয়োজন করত ডি জে নেহা, চলত উদ্যাম নৃত্য।

এ প্রসঙ্গে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, নেহা ও আরো যারা ছিল তাদের কাজই ছিল প্রতিরাতে রাজধানী বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় পার্টির আয়োজন করা। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পার্টিতে অ্যাটেন্ড করা ও নাচ গান করা। এটা তার পেশা ছিল। মোবাইলেও তার এ ধরনের প্রমাণ পেয়েছি। আরাফাত ও মাধুরির মৃত্যুর মূল কারণই ছিল অতিরিক্ত মদ্যপান করা।

পুলিশ জানায়, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে উদঘাটিত হবে আসল রহস্য।

হারুণ অর রশীদ বলেন, এ মামলার আসামি ৫ জনের মধ্যে আরাফাত মারা গেছেন। মামলার অন্য আসামি রায়হান ও নুহাত আলম তাফসীরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বলেন, সর্বশেষ নেহাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি রয়েছে একজন। সেও আদালতে হাজির হয়েছেন, তাকেও আমরা রিমান্ডে আনব।

এদিকে মামলার জট খুলতে শুক্রবার নেহাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার এসআই মো. সাজেদুল হক। অপরদিকে আসামিপক্ষে রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করা হয়। পরে শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সত্যব্রত শিকদার পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হেমায়েত উদ্দিন খান হিরণ আদালতে আসামির রিমান্ড চেয়ে শুনানি করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, আসামি নেহা ওই ঘটনার মাস্টারমাইন্ড। তার ডাকে সাড়া দিয়ে অপর আসামিরা ভিকটিমকে নিয়ে ডিজে পার্টিতে যায়। সেখানে ভিকটিমকে বিষাক্ত মদ পান করানো হয়। অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বাসায় নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। পরবর্তী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভিকটিমের মৃত্যু হয়। বিষাক্ত মদ পান করানোর ফলেই অপার সম্ভাবনাময় ভিকটিমের মৃত্যু হয়।

আদালত সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার মামলার আসামি সাফায়েত জামিল আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরও আগে গত ৩১ জানুয়ারি ওই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর বন্ধু মর্তুজা রায়হান চৌধুরী (২১) ও নুহাত আলম তাফসীরের (২১) পাঁচ দিন করে রিমান্ডের আদেশ দেন আদালত।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২৮ জানুয়ারি বিকাল ৪টার দিকে মর্তুজা রায়হান ওই শিক্ষার্থীকে নিয়ে মিরপুর থেকে স্কুটার করে লালমাটিয়ায় আরাফাতের বাসায় নিয়ে যান। পরে আরাফাত, ওই শিক্ষার্থী ও রায়হান একসঙ্গে উবারে করে উত্তরার তিন নম্বর সেক্টরের প্যারাডাইস টাওয়ারের ‘বাম্বুসুট রেস্টেুরেন্টে’ যান। সেখানে আসামি নেহা, শাফায়েত জামিলসহ (২২) আসামিরা মদ পান করেন এবং ভিকটিমকে মদ পান করান।

একপর্যায়ে ভিকটিম অসুস্থবোধ করলে রায়হান তাকে মোহাম্মদপুরে বান্ধবীর বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে নুহাতের বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে রায়হান ভিকটিমকে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের পর রাতে ভিকটিম অসুস্থ হয়ে বমি করলে রায়হান তার আরেক বন্ধু অসিম খানকে ফোন দেয়। অসিম পরদিন এসে ভিকটিমকে প্রথমে ইবনে সিনা ও পরে আনোয়ার খান মর্ডান মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে ভর্তি করেন। দুইদিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর ভিকটিম মারা যান।

তদন্ত সূত্র জানায়, রিমান্ডে রায়হান পুলিশকে জানিয়েছে, ওই ছাত্রীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ সূত্র ধরে তাদের মাঝে প্রায়ই শারীরিক সম্পর্ক হতো। শুক্রবার তারা ব্যাম্বু রেস্টুরেন্টে মদ্যপানের পর সেখানকার বাথরুমে ঢুকে শারীরিক সম্পর্কের চেষ্টা করছিল। পরে তাফসীরের বাসায় গিয়ে শারীরিক সম্পর্ক হয়। ওই রাতে তরুণী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এর আগে সোমবার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে ওই তরুণীর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সেলিম রেজা বলেন, ওই শিক্ষার্থীর শরীরে জোরপূর্বক ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি। খাবারে বিষক্রিয়ার ফলে তার মৃত্যু হতে পারে। আমরা আলামত সংগ্রহ করে ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছি। রিপোর্ট এলে আমরা বিস্তারিত বলতে পারব। তিনি বলেন, নেশাজাতীয় কিছু খাইয়ে অচেতনের পর তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক হয়েছে কি না, তা পরীক্ষার জন্য আলামত পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ বলছে, গত ৩০ জানুয়ারি রাতে ধানমন্ডির সিটি জেনারেল হাসপাতালের আরাফাতের মৃত্যু হয়। ওই হাসপাতালের চিকিৎসকরা প্রাথমিক রিপোর্টে মদপানে বিষক্রিয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তার (আরাফাত) লাশ তোলার আবেদন করা হতে পারে।

https://youtu.be/xC_DygSjhT0

 

Check Also

প্রেসক্রিপশনের সূত্র ধরে মিলল খুনি, স্বামী-স্ত্রী মিলে হত্যা করে সাবিনাকে!

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার গঙ্গাশ্রম এলাকার প্রায় আড়াই মাস আগে জোড়া ব্রিজের নিচে লাগেজের ভেতর থেকে …